skip navigation

This website uses CSS layout which is not compatible with your current browser. Please consider using a more up to date browser to view this site.


আমার কেন এমএস হয়েছে?

‘‘আমার নিজের রোগ ধরা পড়ার আগে জানতাম না এমএস-এর ব্যাপারে আমরা কতখানি অজ্ঞ৷মা কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন, বল্লেন তোমায় এবার হুইলচেয়ারে জীবন কাটাতে হবে, তুমি মরে যাবে৷ মাকে বোঝাতে হয়েছিল পাঁচজনের মধ্যে মাত্র একজনকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে হয়, ও যাদের এমএস রয়েছে তারা স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল পায়৷’’

এমএস রোগ হওয়ার জন্য আপনি দায়ী না, এর সঙ্গে জীবনশৈলী বা আচরণের কোনো সম্পর্ক নেই৷ এমএস কেন যে হয় তা স্পষ্টভাবে কেউই জানে না, তবে গবেষণায় জানায় যে জিন (বংশগত) ও পরিবেশগত কারণের সংমিশ্রণের ফলে এমন ঘটে৷

ইউ.কে.-তে প্রায় 85,000 মানুষ এমএস আক্রান্ত, অর্থাত্ প্রতি 800-1000 জনের মধ্যে একজন৷ এমএস রোগাক্রান্ত অধিকাংশদের 20 থেকে 40 বছর বয়সে এই রোগ ধরা পড়ে৷ এটা পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বেশী দেখা যায়৷

মাল্টিপল স্কলেরোসিস সংক্রামক নয়, বরং শরীরে বেড়ে ওঠে৷ সহজ ভাষায়, যখন সুরক্ষাদায়ক উপাদান সুষুম্না, মস্তিষ্কের চারিপাশের নার্ভসমূহ ও মেরুদন্ডের (যা দিয়ে কেন্দ্রীয় নার্ভসমূহ গঠিত) ক্ষতি হয় তখন এমএস দেখা যায়৷সুষন্মাকান্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলে মস্তিষ্ক থেকে শরীরে বার্তা পৌঁছাতে দেরী হয়, বা পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে এমএস-এর উপসর্গ দেখা দেয়৷

এমএস এক অটোইমিউন (autoimmune) অবস্থা৷ অর্থাত্ আপনার রোগ প্রতিরোধ (ইমিউন) ব্যবস্থা নিজেই আপনার শরীরে আক্রমণ করে৷ সাধারণত এই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে কিন্তু এমএস-এ এই ব্যবস্থা আপনার নিজের শরীরের কোষ, সুষম্না ও বিশেষ করে নার্ভগুলিকে বিদেহী অচেনা মনে করে৷

সম্পূর্ণভাবে আবরণহীন অসুরক্ষিত হয়ে পড়ে, তাতে ক্ষত দেখা যায়, যাক লিজিয়ন (lesions) বা প্লাক (plaques) বলে৷ এই সুরক্ষার অভাবের ফলে নার্ভসমূহ দিয়ে বহমান বার্তাগুলিতে বাধা পড়ে৷ এই বার্তা মন্থর হয়ে যেতে পারে, বিকৃত হয়ে যেতে পারে, (শর্ট সার্কিট হয়ে) একটি নার্ভ থেকে অন্য নার্ভে চলে যেতে পারে, কিংবা এগোতেই পারে না৷

সুষম্নার ক্ষতির পাশাপাশি, কখনও কখনও প্রকৃত নার্ভের তন্তুগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে৷ নার্ভের এই ক্ষতির ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অক্ষমতা ও বিকলাঙ্গতা বাড়তে থাকে৷

যেহেতু এই কেন্দ্রীয় নার্ভসমূহের সঙ্গে শরীরের সব ক্রিয়াকলাপ যুক্ত তাই এমএস নানারকমের উপসর্গ দেখা দিতে পারে৷শরীরের কেন্দ্রীয় নার্ভসমূহের যে অংশ প্রভাবিত ও ঐ ক্ষতিগ্রস্ত নার্ভ যে কাজ করছিল সেইমত বিশেষ উপসর্গ দেখা দেয়৷

সঙ্গে দেওয়া প্রকাশনা ডাউনলোড করে আপনি এমএস সম্বন্ধে আরো জানতে পারেন৷